Friday, September 13, 2013

কিশোরবেলা ০১:

(ক্লাস এইটে হঠাৎ কবিতার ভূত মাথায় চাপল আমার। অবশ্য ঐ সময়ে এমন কোন ভূত ছিল না যা আমার মাথায় ছিল না! যাই হোক ছন্দে ভরা অনেক ছেলেমানুষী লেখা লিখে ফেলেছিলাম। কী ছিল না তার মধ্যে--প্রেম, প্রকৃতি, পূজা, বিদ্রোহ, হতাশা! আজ অনেকদিন পর হঠাৎ সেগুলো চোখে পড়ল। পড়ে বুঝলাম, যে আবেগ নিয়ে ওগুলো লিখেছিলাম, এখনও ঠিকঠাক সেই আবেগ অনুভব করতে পারি। সেখান থেকেই দুটি তুলে দিলাম)
***
টুটে যাক আগল যত,
বিস্ময়ে সব দেখুক চেয়ে
আমার মাঝে রণের সাজে
ক্রোধের আগুন চলছে বেয়ে!

থাকব না আর শান্ত সরল
পিয়ে আকণ্ঠ ক্রোধের গরল
আঘাত পেয়ে মরার আগে-
আঘাত করতে যাব ধেয়ে!

ক্ষতি হয় হোক রে ক্ষতি
বের হবে তেজের জ্যোতি
স্বকীয়তা সঁপে আপন,
মানব না আর কোনো নতি।

চিরে যাক বক্ষ আমার
সভয়ে সব দেখুক চেয়ে
বক্ষমাঝে সকাল-সাঁঝে
কীসের আগুন চলছে বেয়ে!

বেজে যাক যুদ্ধের বীণ
আসিয়াছে যুদ্ধের দিন
অঙ্গার হোক রে মর্ম
তাই হবে রণের বর্ম
প্রতিরোধ করব আজি অস্ত্রেরই ভীষণ ঘায়ে!

মরি যদি হোক রে মরণ!
হবে না আর অন্তঃক্ষরণ
দীপ্ত হয়ে মরব আজি
তিলে তিলে মরার চেয়ে!

খুলে যাক কণ্ঠ আমার
অবাক ভীরু থাকুক চেয়ে
সংগ্রামেরই সংগীত আমি
গাবই গাব, যাবই গেয়ে!

[সারাদেশে জঙ্গি হামলা ও বিচারকদের উপর আক্রমণে ক্ষুব্ধ হয়ে লেখা!]

***
খুঁজেছ আমায় ব্যগ্র হয়ে
ব্যাথার আঘাত বিরহ সয়ে
এলাম যবে তোমার কাছে
আমায় তুমি চিনলে না!

এই তুমি মোর নামটি ধরে
গেয়েছ যে গান, পাবার তরে
গাইলাম যবে সেই গান আমি,
আমার সে গান শুনলে না!

এই আমাকে জয়ের লাগি
আঁকলে ছবি প্রহর জাগি
সমুখে যবে এলাম তোমার
আমায় তুমি জিনলে না!

[ছাইপাশ! ছাইপাশ! ছাইপাশ!]

ব্যর্থ পূর্ণিমা

আমি বহুদিন ধরে,
বুকের জমাট দুঃখ পাজরের ভেতরে লুকিয়ে রেখে
বসে আছি বড় আশা করে।
কোন এক পূর্ণিমার রাতে,
হবে হয়তো এমনই এক চাঁদময় রাতে
আমার সকল কান্না শুষে নেবে মায়াবী আঁধার
জমে থাকা কষ্ট সব গলে গিয়ে মিশে যাবে আর
ভেসে যাবে কোমল সে আলোকের স্রোতে!

প্রতিমাসে একবার,
সন্ধ্যার আকাশে চেয়ে খুঁজে ফিরি
উঠল কিনা দুঃখহারী হাসিমাখা চাঁদ।
কত মাস কেটে যায়,
ছোট চাঁদ বড় হয়ে ফের ছোট হয়!
নরম রূপার চাঁদ আলোর অশ্রু ঢেলে হাহাকার করে
বলে ওঠে, "কাঁদ, তুই কাঁদ!"

সে(প্রথম অংশ):-প্রখর সূর্যালোকে

নামলই পথে এতদিন পরে সে
পিছনে ফিরে তাকায়নি একবারও
সাফল্য(?) তার হাতে বাঁধা ছিল সত্যিই
কিন্তু পথের টান, তার চেয়ে ছিল অনেকখানি বড়।
শান্তির খোঁজে তৃষ্ণা মেটাতে পথে নামা অবশেষে
হয়ত পাবে, কিংবা পাবে না কিছুই তবু
এসব চিন্তা ভাবেনি কখনও সে।

ঠিক করে দেওয়া বেঁধে দেওয়া শান্তিতে,
অন্যের মত তৃষ্ণা মেটেনি তার।
চোখ কান বুজে ছুটতে ছুটতে হঠাৎ মনে এল
কোথায় শান্তি? কেমন তার আকার?
মিছে হয়ে গেল সব ছোটাছুটি, তুচ্ছ করে ছক
নির্ভার হয়ে সময়ের হাতে তুলে দিল সবকিছু।

বেরিয়ে পড়েই হয়ে গেল দিশেহারা
অগণিত পথ শত শত পথে গিয়ে,
পৌছেছে সব কোথায়, কে তা জানে!
চিন্তার জালে মাথা হয়ে আসে ভার।
সদা ব্যাস্ত যান্ত্রিক এ নগরে
পথ দেখানোর কেউ নেই কোনখানে,
পা বাড়াতেই দ্বিধা ঘিরে আসে তার।
সরল জীবন জটিল হয়ে আসে।

মাথা তুলে শূণ্য আকাশ মাঝে
খোঁজে সে হয়ত দৈব অভয়বাণী
বিষে বিষময় কালোধোঁয়া ভেদ করে
দেখা যায় শুধু ঘন কালো মেঘ, আর-
তারে দোল খাওয়া অজস্র কালো কাক
বুঝতে পারে সে উপরে কিংবা নীচে
ওরাই শুধু তাকিয়ে তার দিকে।
আতঙ্কে সাদা হয়ে যায় মুখখানি

ওর পাশ দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে
হেঁটে যায় এক রুগ্ন কুকুর,
ভয়ার্ত চোখে তাকায় ওর দিকে।
নিজের মাঝে হঠাৎ তাকিয়ে বিহ্বল হয়ে সে,
চমকে দেখে ভয়ে কুকড়ানো মন-
একটু আশা আর অসীম ভয় নিয়ে,
কুকুরের মত তাকিয়ে একভাবে।

দুশ্চিন্তার কালো মেঘ জড় হয়ে,
ঝড় বুঝি ওই উঠল সত্ত্বা জুড়ে
বাইরেও যেন অশান্ত চারপাশে
ছুটছে মানুষ কোন সহজাত ভয়ে।
ঝড়ের দাপটে মেঘগুলো সরে গিয়ে,
প্রখর সূর্য মধ্য আকাশে বসে,
পুড়িয়ে দেয়ার নব অভিযানে নামে।

মাথার উপর জ্বলন্ত কড়া রোদে
মরিচীকা যেন জলে ঝিলমিল করে-
পিপাসার্ত ক্লান্ত তাকে প্রলোভন দিয়ে ডাকে
ঝাঁঝালো রোদের গুমোট গরমে ঘোর লাগা ওই মনে,
এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আবার জাগে।
পিপাসার জল যে করেই হোক পেতেই হবে তাকে
চলতে রাজি সে, যতদিন তাতে লাগে।

কেমন আছ তুমি?

কেমন আছ তুমি?
এতদিন পরে,
চোখ রেখে চোখের উপরে
মৃদুস্বরে, ভালবাসা-আবেগ লুকিয়ে
যদি রাখি প্রশ্ন তবে তার
কী জবাব দেবে তুমি, শুনতে বড় ইচ্ছা হয় আমার
 
হয়তো তোমার মুখে আছে এক বিষণ্ণ ছায়া
হয়তো ঠোটের কোণে লেগে থাকা
আধো হাসিখানি
বুঝিয়ে বলছে কোন অভিমানী মায়া
হয়তো গভীর বিশ্বাস নয়,
নয় নিয়ে অহেতুক ভয়, এইপানে
পাথরের চোখে তুমি চাইবে যেন
আমি নেই তুমি নেই কেউ কোনখানে
আরও কত কী যে হতে পারে কতভাবে
আমি তার কতটুকু জানি!
 
যে তোমাকে চিনতাম, তার কিছু আজও আছে বেঁচে
বাকি সব ভেঙেচুরে, কোথায় লুকিয়ে পড়ে
কবে গেছে মুছে!
অজস্র ঝড়ের ভিড়ে, ভালবাসা খুঁজে ফিরে
সব নয়, চেয়েছিলে শুধু দুটি হাত
কোথায় ছিলাম আমি, কোথায় ছিলে তুমি
কেটে গেল এতগুলো রাত!
তোমার চোখে কি ভেসে উঠবে সেই ঝড়ের আভাস?
যদি ওঠে, ভুলে যাব সব কথকতা
নির্লজ্জ এই মনে
প্রশ্ন হয়ে জেগে রবে একটিমাত্র কথা
"
কেমন আছ তুমি?"